অম্বুবাচীর তাৎপর্য

4

জ্যোতিষী শ্রী অনিকেত

আজ ২২ এ জুন শুরু হচ্ছে এই বছরের অম্বুবাচী
এবং ২৬ জুন অম্বুবাচি প্রবৃত্তি।সনাতন ধর্ম এবং তন্ত্র শাস্ত্রে এ এক তাৎপর্য পূর্ণ সময়।

এই অম্বুবাচী, ‘অমাবতী’ বলেও পরিচিত। এই উৎসবের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে শাস্ত্রের নানা কাহিনী।  বেদে পৃথিবীকে মা বলা হয়ে থাকে। এমনকি পৌরাণিক যুগেও পৃথিবীকে ধরিত্রী মাতা বলে সম্বোধন করা হয়েছে।অম্বুবাচিতে প্রকৃতি এবং মাতৃ শক্তি মিলে মিশে একাকার হয়ে যায়। একদিকে বর্ষার আগমনে রজঃস্বলা হন ধরিত্রী অন্যদিকে ঋতুমতী হন মা কামাখ্যা। দুই সৃষ্টিশীলতার প্রতীক।উর্বরতার প্রতীক।

‘অম্বুবাচী’ শব্দটির আক্ষরিক অর্থ হল ‘অম্বু’ বা জল ‘বাচি ‘অর্থাৎ সূচনা।এই সময় থেকে প্রকৃতির নব সৃষ্টি কার্যর সূচনা হয়।তাই এই সময় নানা ভাবে তাৎপর্য পূর্ণ।

জ্যোতিষ শাস্ত্র আষাঢ় মাসে মৃগশিরা নক্ষত্রের চতুর্থ পদে ঋতুমতী হন ধরিত্রী। পূর্ণ বয়স্কা ঋতুমতী নারীরাই কেবল সন্তান ধারণে সক্ষম হন। তাই অম্বুবাচীর পর ধরিত্রীও শস্য শ্যামলা হয়ে ওঠেন। নতুন করে প্রাণের সঞ্চার হয়।সৃষ্টি আবার ফিরে আসে তার পরিচিত ছন্দে।

দেশের কিছু স্থানে অম্বুবাচীর সময় দেবী পূজা বন্ধ থাকে। তবে বিভিন্ন তন্ত্রের আরাধনা করা হয়|অসমের কামাক্ষ্যায় বিশেষ পুজো পালিত হয় অম্বুবাচী উপলক্ষ্যে। এই তিনদিন  কামাক্ষ্যায় মন্দিরের দরজা বন্ধ থাকে। স্পর্শ করার নিয়ম থাকে না দেবীকে।

শাস্ত্র মতে, সতীর গর্ভ ও যোনি পড়েছিল কামাক্ষ্যায়। সেই সময় থেকে এই জায়গা পবিত্র সতীপীঠ এবং অম্বুবাচী এখানে একটি উৎসবের আকার নেয় এবং মেলাও বসে যেখানে আসেন দেশ বিদেশের মাতৃ সাধক এবং সাধারণ জনগন।তারাপীঠ সহ বাংলার বিভিন্ন মাতৃ মন্দিরেও অম্বুবাচী পালন হয়।

তবে অম্বুবাচী নিবৃত্তির সময় অত্যান্ত পবিত্র এবং শুভ বলে বিবেচিত হয়। জ্যোতিষ বা তন্ত্র মতে প্রতিকারের জন্যও এই সময় গুরুত্বপূর্ণ।

সবাই শাস্ত্র মতে অম্বুবাচী পালন করুন।
জয় মা কামাখ্যা।